আইনশৃঙ্খলা
যৌন নিপীড়নের পর হত্যার অভিযোগ, মরদেহ ড্রামে ভরে শেরপুরে ফেলে দেওয়া; গ্রেপ্তার ৪

রাজধানীর উত্তরখানে এক বিউটি পার্লারকর্মীকে ডেকে নিয়ে যৌন নিপীড়নের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পরে তাঁর মরদেহ প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে শেরপুরের শ্রীবরদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
গত ২২ অক্টোবর সকালে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কুড়িকাহনিয়া ব্রিজের নিচে একটি প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তদন্তের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করে পিবিআই। নিহত নারী গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি বিউটি পার্লারে কর্মরত ছিলেন।
পিবিআইয়ের তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই নারীকে রাজধানীর উত্তরখানের একটি নির্মাণাধীন ভবনে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে ১০ থেকে ১২ জনের সঙ্গে তাঁকে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে মাহবুবা আক্তার ওরফে ফাতেমা তাঁকে ১ হাজার ২০০ টাকা দিয়ে বিদায় করতে চাইলে আরও টাকা দাবি করেন ওই নারী। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধের একপর্যায়ে ফাতেমা বটি দিয়ে ওই নারীকে আঘাত করেন। তিনি মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে অন্য অভিযুক্তরাও তাঁকে মারধর করেন। একপর্যায়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ।
পরে মরদেহ একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে ট্রাকে করে শেরপুরে নিয়ে ফেলে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় পঞ্চগড় থেকে নুর ইসলাম ওরফে বাবুকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। এ ছাড়া রাজধানীর উত্তরখানসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সজল, নুর মোহাম্মদ ওরফে গসা এবং মাহবুবা আক্তার ওরফে ফাতেমাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গ্রেপ্তার আরও দুজনকে আজ আদালতে হাজির করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ভূমিকা ও ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।







