সাধারণ

জাবি সিএলসির পরিচালক নিয়োগে বিতর্ক: রেজিস্ট্রার ভবনে তালা, ছাত্রদলের হস্তক্ষেপে অবরুদ্ধ উপাচার্য মুক্ত

Takebul Hasan Seyamকন্ট্রিবিউটর৪ নভেম্বর ২০২৬ · ১ মিনিটের পড়াRead in English

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের (সিএলসি) পরিচালক নিয়োগকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিদায়ী পরিচালক অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা পিএসসির সদস্য হওয়ায় দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা নাজমুল মানছুরকে নতুন পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে বাইরের বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে আপত্তি তুলে সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল হক হামীমের অবস্থানের পর বিকাল ৩টা থেকে রেজিস্ট্রার ভবনে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নেন ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহজালাল মাহমুদ বলেন, “আমাদের দাবি ছিল, আমাদের ইনস্টিটিউটের শিক্ষকই পরিচালক হবেন। এটি স্বাভাবিক দাবি। আমরা কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে আসিনি। আমরা এখানে পড়াশোনা করতে এসেছি। আমাদের ইনস্টিটিউট নতুন, সেখানে অগ্রগতি দরকার। এ জন্য ইনস্টিটিউটের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের উপযুক্ত মনে করছি। আমরা পড়াশোনা ঠিকমতো চালাতে চাই। আমাদের বিভাগ থেকেই অভিজ্ঞ শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হোক।”

সিন্ডিকেট সভা চলাকালে উপাচার্যসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবরের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে তালা ভেঙে উপাচার্যসহ কর্মকর্তারা রেব করেন।

এক প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়, “তাদের কাছে দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা বলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের কথা শুনে আমলে নিয়ে বিদায় করে। কিন্তু পরবর্তীতে অধ্যাপক কামরুল হক হামীমের লোকজন ও তার অনুসারীরা এসে সিন্ডিকেট চলাকালীন সেখানে তালা দেন। পরে বিষয়টি শুনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান নেন এবং তালা ভেঙে উপাচার্যকে তার ঢাকার কর্মসূচিতে যোগ দিতে গাড়িতে তুলে দেন।”

অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হওয়ার পর প্রশাসনিক ভবনের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। উদ্ভূত পরিস্থিতির ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম বলেন, “রাষ্ট্রপতি আমাকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করার দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক। শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হলে বা প্রয়োজন হলে তারা আমার সঙ্গে দেখা করবে, কথা বলবে। কিন্তু রেজিস্ট্রার ভবনে তালা দিয়ে একাডেমিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার এখতিয়ার তাদের নেই। যে বা যারা তালা দিয়েছে এবং এর পেছনে যেসব শিক্ষকের হাত আছে বা যারা ইন্ধন দিয়েছেন, তাদের সবাইকে খুঁজে বের করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে আরও খবর