আইনশৃঙ্খলা

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেজাল দুধ তৈরির কারখানায় অভিযান, ২৭০০ কেজি জেলি জব্দ

Sheik Muhammad Parvezকন্ট্রিবিউটর৩০ অক্টোবর ২০২৬ · ১ মিনিটের পড়াRead in English

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বসতবাড়িতে গড়ে ওঠা ভেজাল দুধ তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়ে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় প্রায় ২ হাজার ৭০০ কেজি ক্ষতিকর জেলি, ২০০ লিটার তেল ও ৩২০ লিটার ভেজাল দুধ জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কারখানার মালিকসহ দুজনকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের কৈডাঙ্গা নতুনপাড়া গ্রামে অভিযুক্ত আবুল বাশারের নিজ বাড়িতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন—কৈডাঙ্গা নতুনপাড়া গ্রামের ভেজাল দুধ তৈরির কারখানার মালিক মো. আবুল বাশার ও তাঁর সহযোগী মো. সবুজ। ভ্রাম্যমাণ আদালত আবুল বাশারকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। অন্যদিকে সহযোগী সবুজকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাঁকে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহানের নেতৃত্বে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), উপজেলা প্রশাসন ও ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের সমন্বয়ে এ যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রশাসন জানতে পারে, আবুল বাশার দীর্ঘদিন ধরে নিজের বসতবাড়িতে বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান মিশিয়ে ভেজাল দুধ তৈরি করে বাজারে সরবরাহ করে আসছিলেন।

অভিযানকালে বাড়ির ভেতরে মজুত রাখা ৩৬ ড্রাম জেলি উদ্ধার করা হয়, যার মোট ওজন প্রায় ২ হাজার ৭০০ কেজি। এ ছাড়া দুধ তৈরিতে ব্যবহৃত ২০০ লিটার ক্ষতিকর তেল এবং ৩২০ লিটার তৈরি ভেজাল দুধ জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা এসব উপকরণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় আট লাখ টাকা। পরে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভেজাল সামগ্রী ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ জানান, দুধের মতো একটি অপরিহার্য পুষ্টিকর খাবারে ক্ষতিকর জেলি ও রাসায়নিক মিশিয়ে বাজারজাত করা অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনার সত্যতা পেয়ে অভিযান চালিয়ে কারখানাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং জড়িতদের সাজা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

এ বিষয়ে আরও খবর