সাধারণ

শেষ বিদায়ে রাষ্ট্রীয় সম্মান পেলেন না বীর মুক্তিযোদ্ধা সাত্তার, ইউএনওর ব্যাখ্যা তলব

Desk Reportকন্ট্রিবিউটর৬ নভেম্বর ২০২৬ · ২ মিনিটের পড়াRead in English

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় রাষ্ট্রীয় সম্মান ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তারকে (৭৮) দাফনের ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরিবারের অভিযোগ, একাধিকবার জানানোর পরও গার্ড অব অনারের ব্যবস্থা করেননি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলাম। এ ঘটনায় তাঁর কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছেন জেলা প্রশাসক।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকায় মারা যান আব্দুস সাত্তার। তাঁর বাড়ি ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়নের মহালক্ষ্মীপাড়া গ্রামে। কর্মজীবনে যোগাযোগ ও আইন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। জীবনের শেষ সময়ে ঢাকায় ছেলের সঙ্গে থাকতেন।

স্বজনদের ভাষ্য, ঢাকায় প্রথম জানাজা শেষে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। এরপর রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানোর অপেক্ষায় থাকেন পরিবারের সদস্য ও সহযোদ্ধারা। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও উপজেলা প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত গার্ড অব অনার ছাড়াই দাফন সম্পন্ন করা হয়।

পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, বিষয়টি ইউএনও মুন্নী ইসলামকে একাধিকবার জানানো হয়েছিল। কিন্তু সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে গার্ড অব অনারের ব্যবস্থা করা হয়নি।

নিহতের ভাই শাহজাহান বলেন, মুক্তিযুদ্ধে অস্ত্র হাতে অংশ নেওয়া ভাইকে প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় সম্মানের মধ্য দিয়ে বিদায় জানাতে চেয়েছিলেন তাঁরা। সেই প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় পরিবার গভীরভাবে মর্মাহত।

একই গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার মোল্লাও এ ঘটনায় ক্ষোভ জানান। তাঁর বক্তব্য, গার্ড অব অনারের আয়োজন না হলেও প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত হয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারতেন। সহযোদ্ধার বিদায়ে এমন পরিস্থিতি তাঁদের জন্য বেদনাদায়ক।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইদ্রিস মিয়া মাস্টার জানান, রাষ্ট্রীয় সম্মান ও সশস্ত্র সালামের ব্যবস্থা করতে তিনি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া যায় না জানিয়ে ইউএনও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেননি। জানাজায় অংশ নেওয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল হকও ঘটনাটিকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি ছিল বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন। তিনি বলেন, গার্ড অব অনারের জন্য পুলিশ সদস্য পাঠানো হয়েছিল। বিউগল বাজানোর দলও পুলিশ লাইন থেকে এসেছিল। কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকায় পুলিশ এককভাবে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পারেনি।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে দি ডকুমেন্ট থেকে ইউএনও মুন্নী ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজি আকতার জানিয়েছেন, কেন ওই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়নি এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁর বাড়িতে গিয়ে সমবেদনা জানানো হয়নি, তা জানতে ইউএনওর লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারকেও অবহিত করা হয়েছে। ব্যাখ্যা পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে আরও খবর