আইনশৃঙ্খলা
ছিনতাইকারী ধরে মোবাইল উদ্ধার, পুরস্কৃত সার্জেন্ট রয়েল দেবনাথ

দায়িত্ব পালনকালে ছিনতাইয়ের ঘটনা দেখে তাৎক্ষণিকভাবে ছিনতাইকারীকে ধাওয়া করে আটক এবং ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করায় বিশেষ পুরস্কার পেয়েছেন মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের শ্রীমঙ্গল ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট রয়েল দেবনাথ।
সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মৌলভীবাজার পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে অনুষ্ঠিত জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভায় তাকে এ বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়।
মাসিক কল্যাণ সভায় সভাপতিত্ব করেন মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মনিরুল ইসলাম। সভা সঞ্চালনা করেন সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল সার্কেল) মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান রাজু।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়,গত ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে শ্রীমঙ্গল শহরের ব্যস্ততম হবিগঞ্জ রোডের গদার বাজার এলাকায় ট্রাফিক দায়িত্ব পালন করছিলেন সার্জেন্ট রয়েল দেবনাথ। এ সময় কালীঘাট রোডের বাসিন্দা এক নারী মোবাইল ফোন হাতে রাস্তা পার হওয়ার সময় এক ছিনতাইকারী জোরপূর্বক তার কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে।
ছিনতাইয়ের শিকার নারী চিৎকার শুরু করলে তা শুনতে পান দায়িত্বে থাকা সার্জেন্ট রয়েল দেবনাথ। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ছিনতাইকারীর পিছু ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে ছিনতাইকারীকে ঝাপটে ধরে ফেলেন তিনি। পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ছিনতাইকারী তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি করলেও রয়েল দেবনাথ তাকে আটক করতে সক্ষম হন। এ সময় ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আটক মোঃ রাকিব ও উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনটি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শ্রীমঙ্গল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
এই ঘটনায় সার্জেন্ট রয়েল দেবনাথের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে অপরাধের ঘটনা চোখে পড়ার পর নিজের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা না করে দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এগিয়ে যাওয়াকে তার পেশাদার দায়িত্ববোধের দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পুরস্কার পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় সার্জেন্ট রয়েল দেবনাথ জানান,দায়িত্ব পালনকালে কোনো অপরাধ সংঘটিত হতে দেখলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া একজন পুলিশ সদস্যের দায়িত্ব। ওই সময় নারীটির চিৎকার শুনে তিনি ছিনতাইকারীকে আটক এবং মোবাইল ফোনটি উদ্ধারের চেষ্টা করেন। এ ধরনের স্বীকৃতি ভবিষ্যতে আরও নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে তাকে উৎসাহিত করবে বলেও জানান তিনি।
মাসিক কল্যাণ সভায় পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ,কর্মপরিবেশের উন্নয়ন,বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান এবং জেলা পুলিশের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা হয়। দায়িত্ব পালনে শৃঙ্খলা,সততা, জনবান্ধব আচরণ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় পুলিশ সুপার মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বশীলতা ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে দ্রুত ও আন্তরিক সেবা দেওয়ার মাধ্যমে পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা আরও বাড়াতে হবে।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ,নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে জেলা পুলিশের সব ইউনিটকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার। পূজামণ্ডপ, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা,সড়ক ও জনসমাগমস্থলে নিরাপত্তা জোরদার,নিয়মিত টহল বৃদ্ধি, যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি গুজব ও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অপতৎপরতা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশনা দেন।
সভা শেষে সেপ্টেম্বর মাসের কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা ও থানা পর্যায়ে পুরস্কার দেওয়া হয়। শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নির্বাচিত হন শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ পরিদর্শক সরকার আবদুল্লাহ আল মামুন। শ্রেষ্ঠ এসআই নির্বাচিত হন সদর মডেল থানার এসআই ওবায়দুল্লাহ। শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক কর্মকর্তা নির্বাচিত হন সদর ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট কমলেশ বিশ্বাস। শ্রেষ্ঠ ওয়ারেন্ট তামিলকারী কর্মকর্তা নির্বাচিত হন শ্রীমঙ্গল থানার এএসআই আবু তালেব।
এ ছাড়া পেশাদারিত্ব,নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতি হিসেবে আরও তিনজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়। জুড়ী থানার এসআই মোঃ শামীম উদ্দিন দুই আসামিকে গ্রেপ্তার,দুজনের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা ও ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন উদ্ধারের জন্য পুরস্কৃত হন।
শ্রীমঙ্গল ট্রাফিকের সার্জেন্ট রয়েল দেবনাথ ছিনতাইকারী আটক ও ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধারে ভূমিকা রাখায় বিশেষ পুরস্কার পান। জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই আহলাদ ইবনে জামিল,পিপিএম দুটি পৃথক মামলায় পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার ও গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধারে ভূমিকা রাখায় বিশেষ পুরস্কার লাভ করেন।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আসিফ মহিউদ্দীন,পিপিএম;অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা,পিপিএম;অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমানসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান,সব থানার অফিসার ইনচার্জ এবং বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।







