আইনশৃঙ্খলা

টঙ্গীতে নিপীড়নের অভিযোগের পরদিন মিষ্টি নিয়ে শিশুর বাসায় শিক্ষক, চাপ ও হুমকির দাবি পরিবারের

Desk Reportকন্ট্রিবিউটর২৬ অক্টোবর ২০২৬ · ২ মিনিটের পড়াRead in English

গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছরের এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পরদিন মিষ্টি নিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেম আহম্মদ (৩০)। তবে পরিবারের কারও সঙ্গে দেখা না হওয়ায় ফিরে যান তিনি। এদিকে অভিযোগ প্রত্যাহার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও সরিয়ে নিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছে শিশুটির পরিবার।

পরিবারের বাসভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২০ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৩৮ মিনিটে লাল রঙের ব্যাগ হাতে ভবনে প্রবেশ করেন মোসলেম আহম্মদ। নিচতলায় নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার পর লিফটের দিকে এগিয়ে যান তিনি। পরের মিনিটে তাঁকে লিফটে উঠতে দেখা যায়। প্রায় ১০ মিনিট পর একই ব্যাগ নিয়ে ভবন থেকে বেরিয়ে যান তিনি। অন্য একটি ফুটেজে ব্যাগের ভেতরে মিষ্টির প্যাকেট দেখা গেছে।

পরিবার জানিয়েছে, সেদিন দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে শিশুটির মায়ের হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা পাঠান অভিযুক্ত শিক্ষক। সেখানে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকার কথা জানিয়ে দেখা করতে চান তিনি। ওই সময় শিশুটির বাবা বাসায় ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত পরিবারের কারও সঙ্গে তাঁর দেখা হয়নি।

অভিযোগ ওঠার পরদিন কেন তিনি মিষ্টি নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন, তা জানা যায়নি। বর্তমানে কারাগারে থাকায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ প্রত্যাহারে চাপ দেওয়ার দাবি

শিশুটির বাবার অভিযোগ, পরিবারের সদস্যদের মোবাইল নম্বর ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ তুলে নেওয়া এবং অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিও মুছে ফেলতে বলা হচ্ছে। এতে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) তিনি জানান, সন্তানের ঘটনায় বিচার চাওয়ায় তাঁদের চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। তাঁর প্রতিবাদ আলেম সমাজের বিরুদ্ধে নয়; ধর্মীয় পরিচয়ের আড়ালে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

হুমকির অভিযোগ প্রসঙ্গে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, উভয় পক্ষই মৌখিকভাবে হুমকি পাওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ

গত ১৯ অক্টোবর টঙ্গীর একটি মাদ্রাসায় শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে শিক্ষক মোসলেম আহম্মদের বিরুদ্ধে। ঘটনা জানাজানির পর ২১ অক্টোবর শিশুটির বাবা ও স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

শিশুটির পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে করা মামলায় মোসলেম আহম্মদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। রোববার (২৫ অক্টোবর) আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

ওসি আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও বিভিন্ন আলামত সংগ্রহের পর নিপীড়নের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত এখনো চলছে।

প্রমাণ

এই প্রতিবেদনের সঙ্গে জমা দেওয়া ছবি ও ভিডিও, সম্পাদকের যাচাই ও নির্বাচন করা।

টঙ্গীতে যৌন নিপীড়নের শিকার শিশুর বাড়িতে আপস করতে গিয়েছিলেন অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক মোসলেম আহম্মদ | ছবি: সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেওয়া
টঙ্গীতে যৌন নিপীড়নের শিকার শিশুর বাড়িতে আপস করতে গিয়েছিলেন অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক মোসলেম আহম্মদ | ছবি: সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেওয়া

এ বিষয়ে আরও খবর