রাজনীতি
এক স্বৈরাচারকে সরিয়ে নতুন স্বৈরাচারের উত্থান দেখছি: নাহিদ ইসলাম

এক স্বৈরাচারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পর দেশে নতুন স্বৈরাচারের উত্থান দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, পতিত স্বৈরাচার এবং নতুন স্বৈরাচার—উভয়কেই পরাজিত করার অঙ্গীকার জনগণের কাছে করেছেন তাঁরা।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এনসিপির গণবিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। দলের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এনসিপির সবচেয়ে বড় এই রাজপথের কর্মসূচিতে কয়েক হাজার নেতা-কর্মী অংশ নেন। জাতীয় জাদুঘরের সামনের চত্বর ও আশপাশের সড়কে তাঁরা অবস্থান নেন। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের প্রার্থী আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে পৃথক মিছিলও সমাবেশে যোগ দেয়।
সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশ পরিচালনার পরিকল্পনা নেই বলে অভিযোগ করেন নাহিদ। তাঁর দাবি, দুর্নীতি, লুটপাট, চাঁদাবাজি ও দখলদারি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়েই লন্ডন থেকে দেশে এসেছেন তারেক রহমান।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণার প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ বলেন, বর্তমান সরকার পতিত স্বৈরাচারকে মোকাবিলা করতে পারবে না। এ পরিস্থিতিতে জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া তরুণ ও সাধারণ মানুষকে আবার ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি
নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, ডাকাতি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ তোলেন নাহিদ। তাঁর বক্তব্য, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
এসব ব্যর্থতার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে দায়ী করে তাঁদের পদত্যাগ দাবি করেন তিনি।
দুই মন্ত্রী পদত্যাগ না করলে সারা দেশে মিছিলের কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন নাহিদ। দাবি আদায়ে সেই মিছিল প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন তিনি।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ও পানির হিস্যা নিয়ে বক্তব্য
সীমান্ত হত্যা, পার্বত্য অঞ্চলের অস্থিরতা এবং ভারতের আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের ওপর কথিত নিপীড়নের বিষয়ে সরকার যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন এনসিপির আহ্বায়ক।
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ভারতকে অবৈধ করিডর দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। এমন কোনো ব্যবস্থা দেশের মানুষ মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেন নাহিদ।
ডিসেম্বরে ন্যায্য শর্তে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়ন না হলে আবারও রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। বাংলাদেশের প্রাপ্য পানির হিস্যার প্রশ্নে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান।
সমাবেশে এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন দাবি করেন, কলকাতায় এক হাজার টাকায় এলপিজি পাওয়া গেলেও বাংলাদেশে একই জ্বালানির জন্য আড়াই হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাব কলকাতায় পড়ে না কি না, প্রশ্ন তুলে জ্বালানিমন্ত্রীর কাছে জবাব চান তিনি।
গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিও জানান আখতার। পাশাপাশি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগীদের বিচার দাবি করেন তিনি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকার।







