রাজনীতি

জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পদ্মা ব্যারাজ উদ্বোধনের ঘোষণা, উপকৃত হবেন ৭ কোটি মানুষ

Sheik Muhammad Parvezকন্ট্রিবিউটর২৫ অক্টোবর ২০২৬ · ২ মিনিটের পড়াRead in English

আগামী বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ ১৯টি জেলার কৃষি, সেচ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া কাঞ্চনপার্ক এলাকায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প পরিদর্শন ও কারিগরি বিষয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ উপকৃত হবেন। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশের প্রায় সাত কোটি মানুষের জীবনযাত্রায় এ প্রকল্প ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এটি একটি মেগা প্রকল্প, যা বাস্তবায়নে প্রথম পর্যায়ে ৩৫ হাজার কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে।

তিনি আরও বলেন, নদীপাড়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে জীবনযাপন করছেন। তাঁদের জীবনমান উন্নয়ন এবং জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০৪ সালে এ প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ২০১৬ সালের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজের কাজ শেষ হবে বলে তখন আশা করা হয়েছিল। দেশের স্বার্থে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকার দায়িত্ব নিয়ে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

সভায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের পরিচালক হাসান মাহমুদ বলেন, পাবনার সুজানগর থেকে রাজবাড়ী জেলার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পাবনা, রাজবাড়ীসহ ১৯টি জেলার আর্থসামাজিক চিত্রে পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, পদ্মা ব্যারাজ নির্মিত হলে বছরে প্রায় আট মাস বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও এ প্রকল্পের সুফল পাবে। বর্ষা মৌসুমে ব্যারাজের ৭৮টি গেট খোলা রাখা হবে, যা পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পানিসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রকল্প পরিচালক।

আলোচনা সভায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদী, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সেলিম রেজা হাবিব, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আরিফা সুলতানা রুমা, পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আবু আশরাফ এবং সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর রাশেদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে আরও খবর