সাধারণ

জাবিতে সেশনজট নিরসনে আসছে সমন্বিত একাডেমিক ক্যালেন্ডার: উপাচার্য

Takebul Hasan Seyamকন্ট্রিবিউটর২৭ অক্টোবর ২০২৬ · ১ মিনিটের পড়াRead in English

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) দীর্ঘদিনের সেশনজট নিরসন এবং পরীক্ষা শেষে ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের অনাকাঙ্ক্ষিত অপেক্ষার অবসান ঘটাতে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সমন্বিত একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নুরুল ইসলাম এই নতুন ভাবনার কথা জানান।

বিভিন্ন বিভাগের বিচ্ছিন্ন ক্যালেন্ডারের বদলে অনুষদভিত্তিক (ফ্যাকাল্টি-ওয়াইজ) কেন্দ্রীয় রূপরেখা তৈরির লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোগের ফলে নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের ভর্তি, ক্লাস, পরীক্ষার সময়সূচি এবং ‘আউটকাম বেসড এডুকেশন’ (ওবিই) সিস্টেমের সুনির্দিষ্ট ও আধুনিক দিকনির্দেশনা থাকবে।

​সমন্বিত এই একাডেমিক ক্যালেন্ডার চূড়ান্ত ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে এক সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগীয় প্রধানদের (সভাপতি) সাথে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিটি বিভাগ তাদের নিজ নিজ একাডেমিক প্রস্তাবনা ও সময়সূচি সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিনদের নিকট জমা দেবে। পরবর্তীতে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, ডিনবৃন্দ এবং ইনস্টিটিউটের পরিচালকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কেন্দ্রীয় পর্যালোচনা পরিষদ প্রাপ্ত প্রস্তাবনাগুলো গভীরভাবে মূল্যায়ন করে চূড়ান্ত একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করবে।

​বর্তমান কাঠামোগত ভিন্নতা তুলে ধরে উপাচার্য জানান যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬তম ব্যাচ থেকে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষগুলোর জন্য শুরু থেকেই পূর্ণাঙ্গ ইউনিফর্মিটি বা কাঠামোগত সামঞ্জস্য নিশ্চিত করে একক ক্যালেন্ডার চালু করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সেশনজটের জটিলতা তৈরি না হয়। অন্যদিকে, ৫৬তম ব্যাচের পূর্ববর্তী ব্যাচগুলোর জন্য বিদ্যমান ইয়ার ও সেমিস্টার পদ্ধতির বৈচিত্র্যকে চমৎকারভাবে সমন্বয় করে প্রতিটি অনুষদের প্রয়োজন অনুযায়ী সমান্তরালভাবে পৃথক একাডেমিক ক্যালেন্ডার তৈরি করা হবে। এর ফলে চলমান ব্যাচগুলোর পরীক্ষাসংক্রান্ত ও ফলাফল প্রকাশের দীর্ঘসূত্রতা বহুলাংশে কমে আসবে।

​নতুন এই সমন্বিত একাডেমিক রূপরেখা প্রণয়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের সভাপতি একমত ও পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন বলে উপাচার্য নিশ্চিত করেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে সেশনজটমুক্ত ও যুগোপযোগী আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার আওতায় এনে এই সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ সফল করতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে আরও খবর