সাধারণ

মাদারীপুরে মসজিদ কমিটি নিয়ে সংঘর্ষ, পাঁচ ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ

Desk Reportকন্ট্রিবিউটর২ নভেম্বর ২০২৬ · ১ মিনিটের পড়াRead in English

মাদারীপুর সদর উপজেলায় মসজিদ পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় অন্তত পাঁচটি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ এবং প্রায় ৩০টি বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের বাহেরান্দী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় তিন মাস আগে বাহেরান্দী জামে মসজিদের পরিচালনা কমিটিতে মোশারফ ফকিরকে সভাপতি করা হয়। এ সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে নিজেকে সভাপতি দাবি করেন স্থানীয় বাচ্চু মোড়ল। বিষয়টি নিয়ে তাঁর সমর্থকদের সঙ্গে সাবেক ইউপি সদস্য এমদাদ মাতুব্বরের সমর্থকদের বিরোধ তৈরি হয়। এর আগেও দুই পক্ষ কয়েক দফা সংঘর্ষে জড়ায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বুধবার সকালে বাচ্চু মোড়লের শতাধিক সমর্থক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এমদাদ মাতুব্বরের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালান। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চলে। খবর পেয়ে সদর মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ক্ষতিগ্রস্ত তামিম মাতুব্বর অভিযোগ করেন, পুলিশ তাঁদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পর প্রতিপক্ষ হামলা ও অগ্নিসংযোগ চালায়। সাবেক ইউপি সদস্য এমদাদ মাতুব্বরও পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে দাবি করেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

তবে হামলা ও অগ্নিসংযোগে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাচ্চু মোড়ল। তাঁর দাবি, এমদাদ মাতুব্বর ও তাঁর সমর্থকেরা নিজেরাই সংঘর্ষে জড়িয়ে দায় তাঁর ওপর চাপাচ্ছেন। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়েছেন তিনি।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। আগের সোমবারও সংঘর্ষের সময় কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট হয়। পুলিশ উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।

পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের কারণে বারবার সংঘর্ষ হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে আরও খবর