বিশ্ব

দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের আটকে জাতিসংঘের উদ্বেগ, নির্বিচারে আটক ব্যক্তিদের মুক্তির আহ্বান

Desk Reportকন্ট্রিবিউটর১১ অক্টোবর ২০২৬ · ২ মিনিটের পড়াRead in English

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে আয়োজিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের আটকের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর। একই সঙ্গে নির্বিচারে আটক ব্যক্তিদের অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের মুখপাত্র থামিন আল-খিতান এক বিবৃতিতে বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত রাখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। জনসমাবেশের ওপর কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে তা অবশ্যই প্রয়োজনীয়তা ও আনুপাতিকতার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

বিবৃতিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়। ভারতের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকারসংক্রান্ত অঙ্গীকারের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব দেয় জাতিসংঘ। পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের উত্থাপিত অভিযোগ ও দাবিগুলো সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর সংলাপের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভের আয়োজন করেন সিজেপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাঁরা যন্তর মন্তরের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (এএনআই) দিল্লি পুলিশের সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, বিক্ষোভস্থলে পৌঁছানোর আগেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় এক হাজার ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আন্দোলনকারীদের যন্তর মন্তরে প্রবেশ ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথে অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আম আদমি পার্টির (আপ) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেতা নেহা বোরাও ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়। এ ছাড়া সিজেপির অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা এবং দলটির আইনবিষয়ক প্রধান রত্না সিংকেও আটক করার খবর পাওয়া যায়।

আটকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় অরবিন্দ কেজরিওয়াল দাবি করেন, ভারতের তরুণসমাজ নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হয়েছে। ভয়ভীতি কিংবা আটক করে তাঁদের আন্দোলন দমন করা সম্ভব হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, তাঁকে এবং পাঁচজন সংসদ সদস্যকে আটক করে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বন্দি পরিবহনে ব্যবহৃত একটি গাড়িতে বিভিন্ন স্থানে ঘোরানো হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে দিল্লি পুলিশ আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দিলেও সিজেপির কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে এএনআইয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এদিকে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় বিক্ষোভ চলাকালে কয়েকজন আইনজীবীকে আটকের ঘটনাও আলোচনার সৃষ্টি করে। সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন তাঁদের মুক্তির জন্য জরুরি হস্তক্ষেপের আবেদন জানায়। পরে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, তাঁর মৌখিক হস্তক্ষেপের পর আটক আইনজীবীদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

বিক্ষোভ ও আটকের এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করা, আইন প্রয়োগে সংযম বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক মতবিরোধ নিরসনে সংলাপের পথ অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর।

এ বিষয়ে আরও খবর