বিশ্ব

ইন্ডিয়া গেটে রাতভর বিক্ষোভের সময় আটক অঙ্কিতার বাবা-মা মুক্ত

Desk Reportকন্ট্রিবিউটর১৫ অক্টোবর ২০২৬ · ২ মিনিটের পড়াRead in English

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ইন্ডিয়া গেটে রাতভর অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে আটক অঙ্কিতা ভান্ডারীর বাবা-মাকে ছেড়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কংগ্রেস। একই কর্মসূচি থেকে আটক দলটির কয়েকজন নেতা-কর্মীও পরে ছাড়া পান।

উত্তরাখণ্ডে ২০২২ সালে নিহত অঙ্কিতার ঘটনায় ন্যায়বিচার এবং বিজেপি নেতা দুষ্যন্ত কুমার গৌতমকে সিকিমের রাজ্যপাল নিয়োগের সিদ্ধান্ত স্থগিতের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরিবারের দাবি, হত্যাকাণ্ডে কথিত প্রভাবশালী ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্ত শেষ হওয়ার আগে গৌতমকে ওই সাংবিধানিক পদে নিয়োগ দেওয়া উচিত নয়।

বৃহস্পতিবার ভোরে পুলিশ অঙ্কিতার বাবা-মাসহ বিক্ষোভকারীদের আটক করে। তাঁদের তিলক মার্গ থানায় নেওয়া হয়। পরে মুক্তি পেয়ে পরিবারের সদস্যরা এক আত্মীয়ের বাড়িতে যান বলে কংগ্রেস জানিয়েছে।

আটকের পর অঙ্কিতার বাবা সাংবাদিকদের জানান, মেয়ের ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। গৌতমের নিয়োগ বাতিল না হলে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের কথাও বলেন তিনি।

এর আগে বুধবার অবস্থানস্থলে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সংসদ সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র। তাঁরা অঙ্কিতার বাবা-মায়ের দাবির প্রতি সমর্থন জানান।

পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরা, সুপ্রিয়া শ্রীনেতসহ অন্যরা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচার চেয়ে আসা পরিবারের উদ্বেগের সমাধান না করে বিক্ষোভকারীদের আটক করা হয়েছে। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও তুলেছে দলটি।

অঙ্কিতার পরিবার ও কয়েকজন অধিকারকর্মী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে গৌতমের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করে আসছেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। গৌতম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তাঁর নাম এ ঘটনার সঙ্গে জড়ানোর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন।

উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশের কাছে একটি রিসোর্টে অভ্যর্থনাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন ১৯ বছর বয়সী অঙ্কিতা ভান্ডারী। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁকে হত্যা করা হয়। ওই বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর চিলা খাল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় রিসোর্টমালিক পুলকিত আর্য এবং দুই কর্মী সৌরভ ভাস্কর ও অঙ্কিত গুপ্তকে দোষী সাব্যস্ত করে ২০২৫ সালের ৩০ মে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। হত্যা, প্রমাণ নষ্টসহ বিভিন্ন অপরাধে তাঁদের সাজা দেওয়া হয়।

তিনজনের সাজা হলেও ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত ছিলেন কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে পরিবার। সেই দাবি এবং গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগের সিদ্ধান্ত ঘিরেই নতুন করে প্রতিবাদে নেমেছেন অঙ্কিতার বাবা-মা।

এ বিষয়ে আরও খবর