সাধারণ

লাউয়াছড়ায় ৫ মাস ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ,আর্থিক সংকটে বনকর্মীরা

Das Satyajitসিটিজেন জার্নালিস্ট (Verified)৩০ অক্টোবর ২০২৬ · ২ মিনিটের পড়াRead in English

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ আশপাশের বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিয়োজিত সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ কর্মচারী ও কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) সদস্যরা টানা পাঁচ মাস ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ,বিভাগীয় বন কর্মকর্তার (ডিএফও) অসহযোগিতা ও অর্থ ছাড় না করার কারণে তাঁদের বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। ফলে জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করলেও দীর্ঘদিন ধরে পারিশ্রমিক না পেয়ে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ,মৌলভীবাজার রেঞ্জের আওতাধীন লাউয়াছড়া,কালাছড়া ও চাউতলী বন বিটের বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির নিয়োজিত ৪০ জন সিপিজি সদস্য কাজ করছেন। তাঁদের মধ্যে ৩০ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী। দৈনিক রুটিন অনুযায়ী তাঁরা দিন-রাত বনের বিভিন্ন স্থানে টহল দেন। এ কাজের বিনিময়ে প্রত্যেককে দৈনিক ৩০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়। তবে গত পাঁচ মাস ধরে সেই ভাতাও বন্ধ রয়েছে।

সিপিজি সদস্যদের অভিযোগ,২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে তাঁদের বেতন-ভাতা প্রদান ও কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছিল। কিন্তু সম্প্রতি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম বর্তমান সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটিকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে অর্থ ছাড় বন্ধ রেখেছেন। এতে মাঠপর্যায়ের কর্মী ও টহল সদস্যরা সরাসরি আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

তাঁদের মধ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বী সদস্যদের অভিযোগ,দুর্গাপূজার মতো বড় উৎসবেও তাঁরা কোনো উৎসব ভাতা কিংবা বকেয়া পারিশ্রমিক পাননি। ফলে উৎসব কাটাতে হয়েছে চরম কষ্টের মধ্য দিয়ে।

সিপিজি সদস্য বাবুল মিয়া বলেন, আকস্মিকভাবে বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ধারদেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে। এতে তাঁরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

সদস্য সুনীল ও অরুন কাহার জানান,বেতনের অভাবে এবারের দুর্গাপূজা অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে কাটাতে হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে কীভাবে সংসার চালাবেন,তা নিয়েও তাঁরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। দ্রুত তাঁদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।

এদিকে দীর্ঘদিন পারিশ্রমিক না পাওয়ায় কর্মীদের পরিবারে খাদ্য,সন্তানদের শিক্ষাব্যয় ও চিকিৎসার খরচ জোগানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী এসব কর্মীর বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় বনাঞ্চলের নিয়মিত টহল কার্যক্রম নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে আরও খবর