সাধারণ
অবকাঠামো উন্নয়ন থেকে গবেষণা, নতুন সম্ভাবনার পথে হাবিপ্রবি

উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হিসেবে পরিচিত দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) অবকাঠামোগত উন্নয়ন, গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীবান্ধব নানা উদ্যোগে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের অষ্টম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক ড. মো. এনামউল্যা। দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছেন তিনি।
দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর পর গত ২২ নভেম্বর ২০২৫ সালে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় সমাবর্তন-২০২৫। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এটি ছিল একটি স্মরণীয় ও গৌরবের দিন। সমাবর্তনে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ের আট হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত ও একাডেমিক উন্নয়নে বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সপ্তম একনেক সভায় ৫৭৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকার একটি বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদিত এ প্রকল্প বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বরাদ্দের উন্নয়ন প্রকল্প।
প্রকল্পের আওতায় অভ্যন্তরীণ আরসিসি রাস্তা নির্মাণ, সারফেস ড্রেনেজ ব্যবস্থা, গভীর নলকূপ স্থাপন, অভ্যন্তরীণ পানি সরবরাহ লাইন, ৫০০ কেভিএ সাব-স্টেশন স্থাপন, ভূমি উন্নয়ন ও বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ১৩১ কোটি ৯৭ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।
অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি গবেষণা কার্যক্রমেও বরাদ্দ বাড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বাজেট প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা, যা আগের অর্থবছরের ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার তুলনায় প্রায় ৩০ লাখ টাকা বেশি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (আইআরটি) সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ১২৩টি স্বতন্ত্র গবেষণা প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ১৩টি চলমান যৌথ গবেষণা প্রকল্প এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরের চারটি প্রকল্পের কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, গবেষণা বাজেট বৃদ্ধির ফলে কৃষি, প্রকৌশল, কম্পিউটার বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, মৎস্য ও ভেটেরিনারি অনুষদে উদ্ভাবনী গবেষণার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে। এসব গবেষণা দেশের কৃষি উৎপাদন, খাদ্যনিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও জনস্বাস্থ্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। এ ছাড়া গবেষণায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করে তুলতে চালু করা হয়েছে পিএইচডি ফেলোশিপ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এনামউল্যা বলেন, ‘হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের প্রথম সারির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি। আমি আশা করি, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে সামনের দিনগুলোতে হাবিপ্রবি দেশকে নেতৃত্ব দেবে। আমি দেশবাসীর কাছে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি অনন্য বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে তুলে ধরতে চাই।’
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, চলমান উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং একাডেমিক সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে হাবিপ্রবি উত্তরবঙ্গের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হবে।







