সাধারণ

১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় জাবির অভাবনীয় সাফল্য: ১১ শিক্ষার্থী সহকারী জজ/জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পদে সুপারিশপ্রাপ্ত

Takebul Hasan Seyamকন্ট্রিবিউটর১৯ অক্টোবর ২০২৬ · ২ মিনিটের পড়াRead in English

​বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের (বিজেএসসি) অধীনে অনুষ্ঠিত ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আইন ও বিচার বিভাগের ১১ জন শিক্ষার্থী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সহকারী জজ) পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

এ গৌরবোজ্জ্বল সাফল্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

​সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ অভিনন্দন বার্তা প্রদান করা হয়।

​বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে নিয়োজিত উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম এক বিশেষ অভিনন্দন বার্তায় সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

​অভিনন্দন বার্তায় তিনি বলেন: ​"বিজেএস পরীক্ষায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের ১১ শিক্ষার্থীর এ সাফল্য তাঁদের মেধা, অধ্যবসায় ও যোগ্যতার স্বাক্ষর। এ অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক সুনাম বৃদ্ধি করেছে এবং সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের জন্য অত্যন্ত গৌরবের।"

​তিনি আশা প্রকাশ করে আরও বলেন, নবনিযুক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণ কর্মক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে দেশের বিচার ব্যবস্থায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। বার্তায় তিনি তাঁদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সার্বিক সাফল্য ও উজ্জ্বল সমৃদ্ধি কামনা করেন।

​বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষা হলো দেশের বিচার বিভাগের প্রবেশদ্বার (Entry-level Civil Judge Exam)। এর মাধ্যমে সহকারী জজ/জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পদে উপযুক্ত প্রার্থীদের সুপারিশ করা হয়।

​পরীক্ষার ধরন ও ধাপ বিজেএস পরীক্ষা অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ এবং এটি মূলত তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়ে থাকে:

১. প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (MCQ): ১০০ নম্বরের অবজেক্টিভ টাইপ পরীক্ষা, যেখানে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা লিখিত পরীক্ষার যোগ্য হন।

২. লিখিত পরীক্ষা (Written Exam): ১,০০০ নম্বরের পূর্ণাঙ্গ লিখিত পরীক্ষা (সাধারণ বিষয় ও আইন বিষয়ের বিস্তৃত রূপরেখা নিয়ে গঠিত)।

৩. মৌখিক পরীক্ষা (Viva-Voce): ১০০ নম্বরের ব্যক্তিত্ব ও পেশাগত ভাইভা পরীক্ষা।

​যোগ্যতা ও গুরুত্ব

দেশের স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক (LL.B.) বা স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা প্রার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের এই সুনির্দিষ্ট সাফল্য ক্যাম্পাসের বর্তমান ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের আইনি পেশায় উৎসাহিত করবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থীদের এই চমকপ্রদ অর্জনে পুরো ক্যাম্পাস ও বিভাগে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে। শিক্ষক ও সহপাঠীরা সুপারিশপ্রাপ্তদের ফুল দিয়ে ও শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁদের এই সাফল্য উদযাপিত করছেন। বিভাগের শিক্ষকবৃন্দের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং শিক্ষার্থীদের নিরলস অধ্যবসায়ই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে আরও খবর