সাধারণ
পাঁচবিবিতে অটোচালকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ অটোর সন্ধানে পুলিশ

জীবিকার তাগিদে প্রতিদিনের মতো অটো নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন সাখাওয়াত হোসেন (২৭)। কিন্তু সেই যাত্রাই যে তাঁর জীবনের শেষ যাত্রা হবে, তা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা।
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে গলাকাটা অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ব্যাটারিচালিত অটো ছিনিয়ে নিতেই তাঁকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার আটাপুর ইউনিয়নের পাথরঘাটা ব্রিজের পশ্চিম পাশের একটি নির্জন জায়গা থেকে সাখাওয়াতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি উচাই সূর্যপুর গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জীবিকা অর্জনের উদ্দেশ্যে নিজের অটো নিয়ে বের হন সাখাওয়াত। রাতে পাথরঘাটা ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছানোর পর তিনি দুর্বৃত্তদের কবলে পড়েন বলে ধারণা করা হচ্ছে। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে মরদেহটি নির্জন স্থানে ফেলে রেখে অটোটি নিয়ে সেখান থেকে সরে পড়ে দুর্বৃত্তরা।
পরদিন সকালে ওই এলাকার লোকজন মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে অবহিত করেন। সংবাদ পেয়ে পাঁচবিবি থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি জয়পুরহাট ৪০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর নিহতের পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একজন অটোচালককে হত্যা করে তাঁর জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করা এবং দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
পাঁচবিবি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তামবিরুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা, নিখোঁজ অটো উদ্ধার এবং সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারে পুলিশের কার্যক্রম চলছে।
পুলিশের তদন্তে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।







