সাধারণ

শত্রুতার জেরে কৃষকের বেগুনখেতে বিষ! ক্ষেতলালে নষ্ট ৪২ শতক জমির ফসল

সংবাদিক মো:সুমন মন্ডলকন্ট্রিবিউটর২৭ অক্টোবর ২০২৬ · ২ মিনিটের পড়াRead in English

মাঠজুড়ে স্বপ্ন ছিল বেগুনের ভালো ফলনের। গাছে গাছে বেগুন ধরতে শুরু করেছিল, আর সেই ফসল ঘিরেই ছিল তিন কৃষকের পরিবারের প্রত্যাশা। কিন্তু রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তদের বিষ প্রয়োগের অভিযোগে সেই স্বপ্ন এখন দুশ্চিন্তায় পরিণত হয়েছে। জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়তারা গ্রামে তিন কৃষকের বেগুনখেতে আগাছানাশক প্রয়োগ করে গাছ নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ৪২ শতক জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বেগুনখেতের অবস্থা দেখা যায়।

স্থানীয় কৃষক মো. মামুনুর রশিদ, আমজাদ হোসেন এবং আবু হেনার স্ত্রী জুলেখা বেগমের জমিতে এ ক্ষতির ঘটনা ঘটে। তাঁদের অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জেরে রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা বেগুনগাছে প্যারাকোয়াট জাতীয় ঘাস মারার বিষ প্রয়োগ করেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত জমির মধ্যে মামুনুর রশিদের ১২ শতক, আমজাদ হোসেনের ২০ শতক এবং আবু হেনা ও জুলেখা বেগমের ১০ শতক জমি রয়েছে। ফসল উৎপাদনে খরচ করা অর্থ, শ্রম ও সময় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় কৃষকেরা এখন চরম হতাশায় রয়েছেন।

কৃষক মামুনুর রশিদ জানান, ১২ শতক জমিতে তিনি বেগুন চাষ করেছিলেন। ফসলের পরিচর্যা ও উৎপাদনের পেছনে অনেক শ্রম ও অর্থ ব্যয় করেছেন। কিন্তু রাতের আঁধারে কে বা কারা গাছে বিষ প্রয়োগ করায় তাঁর পুরো আবাদ ক্ষতির মুখে পড়েছে।

আরেক কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন, ২০ শতক জমিতে তাঁর বেগুনের চাষ ছিল। গাছে বেগুন ধরতে শুরু করায় ভালো ফলনের আশা করেছিলেন তিনি। জমিতে সেচ দিয়ে বাড়ি ফেরার পর সকালে খেতে গিয়ে গাছগুলো নেতিয়ে পড়তে দেখেন। পরে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি বুঝতে পারেন। গাছ বাঁচানোর চেষ্টা করেও সেগুলো রক্ষা করতে পারছেন না বলে জানান তিনি। এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন এই কৃষক।

জুলেখা বেগম জানান, তাঁদের ১০ শতক জমির বেগুনগাছও একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফসল নষ্ট হওয়ায় তাঁদের পরিবারও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শন করেছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ দত্ত। তিনি জানান, কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি অফিসের মাধ্যমে সহায়তার বিষয়ে তাঁদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সাহারুল ইসলাম বলেন, কৃষকের ফসল নষ্ট করা অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল আলম জানান, কৃষকদের ফসলে বিষ প্রয়োগের অভিযোগের বিষয়টি তাঁরা জানতে পেরেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফসল উৎপাদনে কৃষকের শ্রম ও বিনিয়োগের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে আরও খবর