সাধারণ

কেউ পাস না করা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের চাকরি যাবে না: শিক্ষামন্ত্রী

Desk Reportকন্ট্রিবিউটর৩১ অক্টোবর ২০২৬ · ২ মিনিটের পড়াRead in English

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ না হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকদের চাকরি যাবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রয়োজনে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাছাকাছি ভালো ফল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করার বিষয় বিবেচনা করবে সরকার। কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এবারের ফল সন্তোষজনক হয়নি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা বোর্ডগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে আগামীতে ফলের উন্নয়নে কাজ করা হবে। অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে। এক মাসের মধ্যে এ পরীক্ষা আয়োজনের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে; তবে এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

ফল পুনর্নিরীক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে এহছানুল হক মিলন বলেন, গত এসএসসি পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণে নতুন করে ৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। এইচএসসির ফলও পুনর্নিরীক্ষণ করা হবে। কোনো পরীক্ষার্থী যেন যথাযথ মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন। গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট কম। ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

এবার ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো পরীক্ষার্থী পাস করেননি। গত বছর এমন প্রতিষ্ঠান ছিল ২০২টি। অর্থাৎ শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৯১টি।

পাসের হারে ছাত্রদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন ছাত্রীরা। উত্তীর্ণ ছাত্রী ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন; তাঁদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। অন্যদিকে ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন ছাত্র পাস করেছেন। তাঁদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

তবে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে ছাত্ররা। এবার মোট ৪০ হাজার ৮৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৩৬৩ জন এবং ছাত্রী ১৯ হাজার ৭২১ জন। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন। সে হিসাবে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন।

গত ২ জুলাই এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। নির্ধারিত সূচিতে লিখিত পরীক্ষা ৮ আগস্ট এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা ১৫ আগস্টের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা পিছিয়ে যায়। স্থগিত পরীক্ষাগুলো নেওয়ার পর ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।

এ বিষয়ে আরও খবর