প্রযুক্তি
রূপপুরে উন্নত প্রযুক্তির পাশাপাশি নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলার তাগিদ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার হলেও নিরাপদ পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল, কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, প্রযুক্তিগত সুরক্ষার সঙ্গে পরিচালনার প্রতিটি ধাপে নিয়ম মেনে কাজ করার অভ্যাস নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি গুরুত্ব দিতে হবে পরিবেশ পর্যবেক্ষণ ও স্থানীয় মানুষের সচেতনতায়।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার একটি উদাহরণ রাশিয়ার কালিনিন বিদ্যুৎকেন্দ্র। মস্কো থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দূরে উদোমলিয়া শহরে অবস্থিত চার হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্রটি চার দশক ধরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। এর পাশের জনবসতিতে দৈনন্দিন কার্যক্রমের পাশাপাশি লেকে সাঁতার ও মাছ ধরার মতো কর্মকাণ্ডও চলে।
কালিনিন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, কেন্দ্র পরিচালনায় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। পরিবেশে বিকিরণের মাত্রা পর্যবেক্ষণে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার পাশাপাশি ১৭টি পর্যবেক্ষণ স্টেশন থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এসব তথ্য সার্বক্ষণিক পর্যালোচনা এবং ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য এবং এলাকার বায়ু ও পানির গুণগত মানও নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়। কেন্দ্রটির বিকিরণ নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান ভিক্টর ও. দোলেচিখের দাবি, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকার বিকিরণ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তাঁদের পর্যবেক্ষণে পরিবেশের ওপর কেন্দ্রটির নেতিবাচক প্রভাব পাওয়া যায়নি।
কালিনিনে ব্যবহৃত ভিভিইআর-১০০০ রিঅ্যাক্টরের তুলনায় রূপপুরে আরও আধুনিক ভিভিইআর-১২০০ মডেলের রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হয়েছে। এটি থ্রি প্লাস প্রজন্মের প্রযুক্তি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম প্রকল্পটির প্রযুক্তিগত সক্ষমতার কথা তুলে ধরে এর নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন।
তবে উন্নত প্রযুক্তির পাশাপাশি পরিচালনব্যবস্থার সক্ষমতাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম।
তাঁর মতে, রিঅ্যাক্টরের সুরক্ষাব্যবস্থা যত উন্নতই হোক, দক্ষ ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই। পরিচালনায় ত্রুটির কারণে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে কেন্দ্রের কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে রিঅ্যাক্টর চালু রাখা বা পুনরায় চালু করা সম্ভব না হলে দেশের বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রূপপুরের নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে প্রতিটি পর্যায়ে দায়িত্বশীলতা, নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সুরক্ষাবিধির যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আশপাশের বাসিন্দাদের কাছে নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং তাঁদের সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।







