সংস্কৃতি
জুড়ীতে ৭৬ মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি,নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে উদ্যাপনের লক্ষ্যে মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। প্রতিমা তৈরি ও সাজসজ্জার পাশাপাশি উৎসবকে আনন্দমুখর করে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকেরা।
এ বছর জুড়ী উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে মোট ৭৬টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৭১টি সার্বজনীন এবং পাঁচটি ব্যক্তিগত পূজামণ্ডপ। উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সদস্যসচিব ডা. পিংকু দাস এ তথ্য জানিয়েছেন।
ইউনিয়নভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী,ফুলতলা ইউনিয়নে ১১টি সার্বজনীন,পূর্বজুড়ী ইউনিয়নে ছয়টি সার্বজনীন,সাগরনাল ইউনিয়নে নয়টি সার্বজনীন ও একটি ব্যক্তিগত,গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নে ১০টি সার্বজনীন ও একটি ব্যক্তিগত, জায়ফরনগর ইউনিয়নে ১২টি সার্বজনীন ও একটি ব্যক্তিগত এবং পশ্চিমজুড়ী ইউনিয়নে ২৩টি সার্বজনীন ও দুটি ব্যক্তিগত পূজামণ্ডপ রয়েছে।
শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপন নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশের উদ্যোগে আয়োজকদের সঙ্গে দফায় দফায় মতবিনিময় ও প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি নিজস্ব উদ্যোগেও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করছেন আয়োজকেরা।
উৎসবকে সামনে রেখে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজ এগিয়ে চলছে। মাটির প্রতিমায় রং-তুলির নিপুণ আঁচড়ে দেবীর রূপ ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত শিল্পীরা। অন্যদিকে,পূজামণ্ডপগুলোকে আকর্ষণীয় করে সাজাতে চলছে আলোকসজ্জা ও প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ।
পূজাকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি বিভিন্ন মণ্ডপে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
দুর্গোৎসব উপলক্ষে নতুন পোশাক কেনার ধুম পড়েছে বাজারগুলোতে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রেতারা। পোশাকের পাশাপাশি প্রসাধনসামগ্রী, সাজসজ্জার উপকরণ ও জুতার দোকানেও বাড়ছে ক্রেতাদের আনাগোনা। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে দোকানিরা সাজিয়ে রেখেছেন নানা ধরনের পণ্য।
সব মিলিয়ে প্রতিমা নির্মাণ,মণ্ডপ সাজানো, নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও কেনাকাটার মধ্য দিয়ে জুড়ীতে এগিয়ে চলছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন। এখন অপেক্ষা পূজার আনুষ্ঠানিক সূচনার,যখন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান আর উৎসবের আনন্দে মুখর হয়ে উঠবে উপজেলার পূজামণ্ডপগুলো।







