অর্থনীতি

প্রণোদনার ঋণে শর্ত শিথিল ও ২% নগদ জমার বিধান প্রত্যাহারের দাবি ব্যবসায়ীদের

Desk Reportকন্ট্রিবিউটর৮ অক্টোবর ২০২৬ · ২ মিনিটের পড়াRead in English

প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ঋণ পেতে বিদ্যমান শর্ত শিথিল এবং খেলাপিমুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে ২ শতাংশ নগদ অর্থ জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে ঋণের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি, অতিরিক্ত কাগজপত্রের জটিলতা কমানো এবং ব্যাংকগুলোর সহযোগিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের এক বৈঠকে এসব দাবি উঠে আসে।

বৈঠকে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা জানান, বন্ধ ও সংকটে থাকা শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের নানা ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হতে দীর্ঘ সময় লাগা, অতিরিক্ত নথিপত্র চাওয়া এবং ঋণের আবেদন নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্বের কারণে কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তাঁরা বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঋণের আবেদন নিয়ে সিদ্ধান্ত পেতে এক মাস পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে নিয়মিত সাপ্তাহিক অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ পরিচালনা পর্ষদ সভা আয়োজন করে আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির প্রস্তাব দেন ব্যবসায়ীরা।

বৈঠকে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ), বাংলাদেশ চেম্বার অব অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএ), বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (বিইএফ), বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএ) এবং মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহাম্মদ ও মো. সরোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন প্রণোদনা কর্মসূচির বাস্তবায়ন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। এসব কর্মসূচির আওতায় জারি করা নীতিমালায় কোনো ঘাটতি, জটিলতা বা অস্পষ্টতা রয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

ব্যবসায়ী নেতারা অভিযোগ করেন, কিছু ব্যাংক প্রণোদনা ঋণের আবেদন গ্রহণে অনীহা দেখাচ্ছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে নানা ধরনের শর্ত ও প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে উদ্যোক্তারা আবেদন করতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে সহায়তা নিতে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ রয়েছে। তবে ব্যাংকগুলোর অসহযোগিতা ও নীতিমালার কিছু জটিলতার কারণে অনেক উদ্যোক্তা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা নিতে পারছেন না।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিপত্রে থাকা জটিলতাগুলো দ্রুত সমাধান করে ইতোমধ্যে জমা পড়া আবেদনগুলো নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, প্রণোদনা কর্মসূচির নীতিমালা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের যৌথ দায়িত্ব। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রুত সহায়তা পান, সে জন্য ব্যাংক, ব্যবসায়ী সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রণোদনা তহবিলের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

বন্ধ ও সংকটে থাকা কলকারখানা পুনরায় চালু এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করতে গত মে মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক মোট ৬২ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করে। এই তহবিলের আওতায় সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়ার কথা। এর মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে ঘোষণার চার মাস পরও এ উদ্যোগের বাস্তব সুফল অর্থনীতিতে দৃশ্যমান হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ৫০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। অন্যান্য খাতেও ঋণ বিতরণের গতি সন্তোষজনক নয়।

এ বিষয়ে আরও খবর